বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম জানুয়ারিতে টানা পঞ্চম মাসের মতো কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এ তথ্য জানিয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, গত মাসে দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি ও মাংসের দরপতন খাদ্যপণ্যের গড়মূল্য কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। খবর রয়টার্স।
এফএওর মূল্যসূচক মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১২৩ দশমিক ৯ পয়েন্টে। এটি ডিসেম্বরের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম।
গত মাসে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি কমেছে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। এ সময় এ জাতীয় পণ্যগুলোর মূল্যহ্রাসের হার ছিল ৫ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে পনির ও মাখনের দাম। এছাড়া গত মাসে বিশ্বব্যাপী মাংসের দাম কমেছে দশমিক ৪ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কয়েক মাস ধরেই নিম্নমুখী আছে চিনির দাম। এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে পণ্যটির মূল্যসূচক ডিসেম্বরের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে এবং এক বছর আগের তুলনায় তা হ্রাস পেয়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ।
এফএও জানায়, শস্য ও ভোজ্যতেলের দামে জানুয়ারিতে কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। এ সময় খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। এছাড়া ভোজ্যতেলের মূল্যসূচক বাড়ার হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, গত মাসে পাম অয়েল, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের দাম বাড়লেও সরিষা তেলের দাম কমেছে। এ মুহূর্তে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় থাকায় দাম বড় ধরনের ওঠানামা করছে না। তবে আবহাওয়া, ঘূর্ণিঝড় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সামনের মাসগুলোয় মূল্য আবার ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে পৃথক এক প্রতিবেদনে এফএও জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন রেকর্ড ৩০২ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়ার কারণে এ সংশোধন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া ২০২৫-২৬ মৌসুমে বিশ্বব্যাপী শস্য মজুদ বাড়বে বলেও জানিয়েছে এফএও। বাজার বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমানে বাজারে খাদ্যপণ্যের প্রয়োজনীয় সরবরাহ আছে। তাই স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা কমেছে। যদিও শস্য আর ভোজ্যতেলের দাম সম্প্রতি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী মাসগুলোয় সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচকে আবার প্রভাব পড়তে পারে।